
ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে একই সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা ঝুঁকির বড় উৎস। বিশ্বের অনেক শীর্ষ নেতা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে রাখেন—এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ক্যামেরায় টেপ লাগানোর পেছনের কারণ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাজনিত কারণ—
১. সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা
স্মার্টফোন হ্যাক হলে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শত্রুপক্ষ বা হ্যাকাররা গোপনে ভিডিও ধারণ বা ছবি তুলতে পারে—যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
২. গোপন বৈঠকের তথ্য সুরক্ষা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু নিয়মিতভাবে সামরিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন বৈঠকে অংশ নেন। ফোনের ক্যামেরা খোলা থাকলে সেসব বৈঠকের দৃশ্য বা নথি ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩. ডিজিটাল নজরদারি প্রতিরোধ
বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিজিটাল নজরদারি নতুন কিছু নয়। ক্যামেরায় টেপ লাগানো একটি সাধারণ কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
শুধু নেতানিয়াহুই নন
নেতানিয়াহু একা নন—বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি একই কৌশল ব্যবহার করেন।
-
মার্ক জাকারবার্গ (মেটার সিইও)
-
এডওয়ার্ড স্নোডেন (হুইসেলব্লোয়ার)
-
বিভিন্ন দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা
তাঁদের অনেককেই ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ঢেকে রাখতে দেখা গেছে।
সাধারণ মানুষের জন্যও কি এটি জরুরি?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে—বিশেষ করে যারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে কাজ করেন বা অনলাইন গোপনীয়তা নিয়ে সচেতন।
সহজ কিছু সতর্কতা:
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ক্যামেরা অনুমতি বন্ধ রাখা
- বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার
- ফোনের সফটওয়্যার আপডেট রাখা
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে রাখা কোনো অদ্ভুত আচরণ নয়; বরং এটি আধুনিক যুগের বাস্তবতায় একটি সচেতন নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা তত বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তাই ছোট্ট একটি টেপও কখনো কখনো বড় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
#বিশ্ব #খবরডটকম
0 মন্তব্যসমূহ