সাধারণ দাগ নয়! ঘাড়ের কালচে ছোপে লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক রোগ



অনেকেই ঘাড়ের চারপাশে কালো দাগ বা ময়লার মতো জমে থাকা চামড়া দেখে বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ের কালো দাগ অনেক সময় শরীরের ভেতরে চলতে থাকা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার করলেও যদি দাগ না যায়, তাহলে সেটি কেবল সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়—বরং একটি রোগের সতর্ক সংকেতও হতে পারে।

ঘাড়ের কালো দাগ কেন হয়?

ঘাড়ের ত্বক অন্য অংশের তুলনায় মোটা এবং ঘাম বেশি হয়। ফলে এখানে সহজেই ময়লা, তেল ও মৃত কোষ জমে যায়। তবে সব ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ কারণে হয় না। অনেক সময় হরমোনজনিত সমস্যা, রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবেও এই কালো দাগ দেখা দিতে পারে।

কোন কোন রোগের সংকেত হতে পারে?

১. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ডায়াবেটিস

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঘাড়ের কালো, মোটা ও ভেলভেটের মতো ত্বককে বলা হয় Acanthosis Nigricans। এটি অনেক সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ, যা ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. স্থূলতা (Obesity)

অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাব পড়ে ত্বকে, বিশেষ করে ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে কালো দাগ দেখা যায়।

৩. হরমোনজনিত সমস্যা (PCOS/থাইরয়েড)

নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) বা থাইরয়েডের সমস্যায় ঘাড়ে কালো দাগ, ব্রণ ও অস্বাভাবিক লোম গজানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৪. ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি

শরীরে ভিটামিন বি-১২ কম থাকলেও ত্বকে রঙের পরিবর্তন হতে পারে, যার মধ্যে ঘাড় কালো হয়ে যাওয়াও একটি লক্ষণ।

৫. কিছু বিরল রোগের ইঙ্গিত

খুব বিরল ক্ষেত্রে ঘাড়ের কালো দাগ পাকস্থলী বা অন্ত্রের কোনো জটিল রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

কখন সতর্ক হবেন?

  • নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও দাগ না গেলে

  • হঠাৎ খুব দ্রুত দাগ গাঢ় হয়ে গেলে

  • দাগের সঙ্গে চুলকানি, মোটা ত্বক বা জ্বালাপোড়া থাকলে

  • পরিবারের ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে

করণীয় কী?

  • রক্তে শর্করা ও হরমোন পরীক্ষা করা

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

  • অতিরিক্ত তেল-মশলা ও চিনি এড়িয়ে চলা

  • ত্বক পরিষ্কার রাখতে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার

  • প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া

চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

নিজে নিজে ঘরোয়া উপায় বা কসমেটিক ব্যবহার করে সমস্যাকে আড়াল না করে, এর মূল কারণ নির্ণয় করা জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে বড় কোনো রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন, নিয়মিত শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর দিন।


#জীবনযাপন #খবরডটকম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ