
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আবার আশা প্রকাশ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনাগুলি শিগগিরই শুরু হবে — বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে। তিনি বলেন, ওমানে সম্প্রতি হওয়া আলোচনাকে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে দেখা উচিত এবং এটিকে শুধু একটি একবারের ঘটনা নয় — বরং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আলোচনার প্রথম লক্ষ্য পারমাণবিক ইস্যু, এবং তিনি এটিকে কেন্দ্রিয় গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তেলের ওপর আরোপিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, যেটি আলোচনার ঠিক পরে ঘোষণা হয়েছে, তা এই আলোচনার লাভজনকতা ও প্রেক্ষাপটকে কঠিন করেছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি বলেছেন, “এই আলোচনার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের পথ তৈরি হবে এবং এটি আবারও শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।”
ওমানে হওয়া আলোচনার সারকথা
ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ছিল পরোশ্চাতোলভাবে ‘পরোক্ষ’ বা আভ্যন্তরীণ সংশোধিত ফরম্যাটে, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলগুলো সরাসরি না বসেও মধ্যস্থতাকারী ওমানের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়েছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিদল বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছে — এবং উভয় পক্ষই বলেছেন এটি ছিল ‘ভালো শুরু’। আরাগচি বলছেন যে এটি যৌক্তিক স্তরে আলোচনা উন্নীত করার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তবে ট্রাস্ট বাড়াতে আরো সময় ও শর্ত পূরণে কাজ করা দরকার।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাশাপাশি জানান যে আগামী আলোচনার সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, কিন্তু দুই পক্ষই বিশ্বাস করেন যে আলোচনাগুলি “শিগগিরই” হওয়া উচিত।
আলোচনার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও প্রকৃতি
এ মাসের শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক জটিল একটি পর্যায় অতিক্রম করছে:
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে ওমানের আলোচনাকে “এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া” হিসেবে দেখা উচিত এবং ডায়ালগ এখনও ইরানের স্থিতিশীল কৌশল।
- তেহরান ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে যে পারমাণবিক সমঝোতা ছাড়াও বিস্তৃত আলোচনাগুলি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফলপ্রসূ হতে পারে, বিশেষ করে যদি কোন মিলিটারি হুমকি না থাকে।
- এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের রপ্তানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা আলোচনার টোনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এটি স্পষ্ট করে দেয় যে আলোচনার পরিবেশ এখনও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, এবং কোনো পক্ষই সম্পূর্ণ সরে আসতে ইচ্ছুক নয়।
কেন্দ্রীয় ইস্যুগুলি: পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও নিরাপত্তা
এবারের আলোচনার মূল ইস্যু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান বলেছে এটি তার “ন্যায্য এবং আইনী অধিকার” — এবং এটি বাদ দিয়ে কোন সমঝোতা সম্ভব নয়।
আগ্রহের একটি বড় দিক হল:
ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু
আরাগচি বলেছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই— এটি “অবিনাশযোগ্য” এবং জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।
এটি মার্কিন পক্ষের চাহিদার সঙ্গে একদিকে অসঙ্গতি রাখতে পারে, কারণ ওয়াশিংটন আগেও বলেছে যে এই ধরণের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সমর্থিত গোষ্ঠীর সমর্থন ইস্যুগুলিও আলোচনার অংশ হওয়া উচিত।
ইরান পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে পেছনে সরে আসবে না এবং এটি বন্ধ না করে কোন সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করবে না।
সামরিক উত্তেজনা ও সতর্কতা
আলোচনার মাঝেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি:
- ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পরীক্ষা নিতে চায়, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
- পাশাপাশি, ইরানি প্রতিনিধিরা বলেছেন যে যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিগুলিতে প্রতিসামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে যদিও কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে, কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক উত্তেজনা দ্বন্দ্বকে আবারও জোরদার করতে পারে।
মার্কিন অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এই আলোচনার ওপর স্বতন্ত্র প্রতিক্রিয়া এসেছে:
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আলোচনাকে “খুবই ভালো” বলছেন এবং ভবিষ্যতের জন্যও আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
- তবুও, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের তেল রপ্তানি ও অন্যান্য সম্পদ লক্ষ্য করে, যা ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এটি এমন একটি দ্বন্দ্বের ছবি দেয় যেখানে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ একসাথে চলছে—এবং উভয়টিই ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথকে নির্ধারণ করবে।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পথ
বর্তমানে আলোচনাটি উন্নয়নের পথে চলছে, তবে এটি পূর্ণ সমঝোতায় রূপ নেবে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিছু সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করা যেতে পারে:
নির্দিষ্ট সময়সূচী ও স্থানে নতুন পর্ব:ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সম্মত হয়েছে যে নতুন আলোচনা “শিগগিরই” হবে, যদিও সময় নির্ধারিত হয়নি।
পরিসর সীমাবদ্ধ করা:
উভয় পক্ষ পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে, যদিও মার্কিন চাহিদা কখনো কখনো আরো বিস্তৃত ইস্যুতে জোর দেয়।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকা:
মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ যেমন ওমান, সৌদি আরব ও কাতার কূটনৈতিক স্তরের মধ্যস্থতার মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে একটি বহুপক্ষীয় সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা:
প্রেসিডেন্ট স্তরের বা উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকদের সরাসরি আলোচনা হলে এটি সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপ শিগগিরই শুরু হবে, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে। এটি ওমানে সাম্প্রতিক আলোচনার ফলস্বরূপ — যা দুটো পক্ষের মধ্যে কিছু সাধারণ ভাষা তৈরি করেছে, কিন্তু বিশ্বাসের ঘাটতি ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলি এখনও অচিহ্নিত সমস্যা।
দুই দেশের সম্পর্ক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সামরিক উত্তেজনার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে — যেখানে সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার দরকার আছে। যদি পরবর্তী আলোচনাগুলি আরও স্থির ও ফলপ্রসূ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে পারে।
#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #পারমাণবিক_আলোচনা #ইরানযুক্তরাষ্ট্র_সম্পর্ক #খবরডটকম
0 মন্তব্যসমূহ