থাইল্যান্ডে সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে

 

 থাইল্যান্ডের ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট (constitutional referendum) একযোগে আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের কাছে জিজ্ঞেস করা—২০১৭ সালে সামরিক-সমর্থিত সংবিধানটি বাতিল করে একটি নতুন সংবিধান রচনা শুরু করা হবে কি না। বর্তমান সংবিধানটি ২০১৭-এ সেনাবাহিনী ও নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠীর দ্বারা গঠিত হয়েছিল, যা সমালোচকরা বলছেন অস্পষ্টভাবে সেনা ও অনির্বাচিত সংস্থাগুলোর শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ সীমিত করেছে।

গণভোটটি শুধুমাত্র সংবিধান বদলানোর নির্দিষ্ট খসড়া অনুমোদন নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন চাইছে—যদি ভোটাররা “হ্যাঁ” বলেন, তাহলে আইন প্রণয়নকারী জাতীয় সংসদ নতুন সংবিধান রচনার প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং পরবর্তী ধাপে খসড়া প্রণয়ন ও আবার গণভোট করা হবে।

এই সময়ে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে দীর্ঘসময় ধরে প্রচলিত সামরিক এবং রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, দলীয় বিরোধিতা, এবং জনগণের গণতান্ত্রিক দাবি—এসব মিলিয়ে গণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক তরুণ ও সংস্কারপন্থী ভোটার মনে করেন এটি একটি সুযোগ যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য বাড়ানো, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রভাব কমানো এবং স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আরেকদিকে, সমালোচকরা সতর্ক করছেন যে শুধুমাত্র এক গণভোট বা নির্বাচন দিয়েই তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সম্মিলন ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। কিছু গোষ্ঠী স্বাধীন মতামতের স্বাধীনতা, সরকারি কর্তৃপক্ষের ভারসাম্য এবং সামরিক প্রভাব কমানোর মতো মৌলিক অধিকারের প্রসার দেখতে চায়।

সংক্ষেপে, থাইল্যান্ডে এই গণভোট হচ্ছে দেশের সংবিধান-কাঠামো ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য, যেখানে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবে বর্তমান সংবিধান বজায় রেখে কি চলবে, নাকি একটি নতুন সংবিধান লেখার জন্য পথ খুলে দেওয়া হবে। 


#থাইল্যান্ড  #গণভোট  #থাই_নির্বাচন  #নতুন_সংবিধান  #রাজনীতি  ##খবরডটকম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ