
দীর্ঘ সময়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর দেশের স্বর্ণবাজারে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমেছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। এতে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে তীব্র সংশোধন এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবে এই দরপতন হয়েছে। এর আগে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের দাম বাড়তে বাড়তে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
দুই দিনের ব্যবধানে বড় পতন
বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দুই দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৩০ হাজার টাকার বেশি কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দামেও অনুরূপ হারে হ্রাস এসেছে। এ ধরনের দ্রুত পতন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব একটা দেখা যায়নি।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেকর্ড দামের কারণে বাজারে বিক্রি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। অনেক ক্রেতাই দাম আরও কমার অপেক্ষায় কেনাকাটা স্থগিত রেখেছিলেন। ফলে বাজারে চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে দামে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে। বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছে।
একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, “স্বর্ণ সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও যখন দাম খুব দ্রুত বাড়ে, তখন হঠাৎ সংশোধনের ঝুঁকিও থাকে। এবার ঠিক সেটাই হয়েছে।”
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া
দামের এই পতনে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় দাম আরও কিছুটা কমলে বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে। তবে যারা উচ্চ দামে স্বর্ণ কিনেছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ঢাকার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, “দাম কমার খবরে দোকানে খোঁজখবর বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতারা এখনো সতর্ক। সবাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”
সামনে কী হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের বাজার এখন অত্যন্ত অস্থির। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মুদ্রানীতি এবং ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর আগামী দিনের দাম নির্ভর করবে। স্বল্পমেয়াদে আরও ওঠানামা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরোপুরি কমে যাবে না বলেও মত বিশ্লেষকদের। তাদের পরামর্শ, স্বর্ণ কেনা বা বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং তাড়াহুড়ো না করা।
রেকর্ড উচ্চতার পর এমন বড় দরপতন স্বর্ণবাজারে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এই ধস সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার শুরু—তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
#খবর ডটকম
0 মন্তব্যসমূহ