
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শনবম ফারিয়া। অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব আর সামাজিক সচেতনতার কারণে তিনি শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নাম উঠে এসেছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে—ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম, মানসিক চাপ এবং নীরবে সহ্য করে যাওয়া কষ্টের গল্পে।
সম্প্রতি এক ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায় শনবম ফারিয়া নিজেই জানিয়েছেন, তার জীবনের কঠিন সময়গুলোতে কাছের মানুষেরাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভরসা দিয়েছেন। সেই সময় তাদের অনেকেই তাকে বলেছিলেন—“তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ।” এই একটি বাক্য যেন অভিনেত্রীর দীর্ঘ দিনের না-বলা অনুভূতিগুলোর প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে।
নীরব সংগ্রামের বছরগুলো
চলচ্চিত্র ও নাটকের জগতে সাফল্যের আড়ালে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সংগ্রাম অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। শনবম ফারিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে—কখনো পেশাগত চাপ, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, আবার কখনো সামাজিক ও অনলাইন সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কঠিন সময়েও ফারিয়া নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি। বরং কাজের মধ্যেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন শক্তি। তবে ভেতরে ভেতরে যে কতটা মানসিক চাপ ও কষ্ট তিনি সহ্য করেছেন, তা খুব কাছের মানুষ ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারেননি।
কাছের মানুষের স্বীকৃতি
শনবম ফারিয়া জানান, জীবনের এক বিশেষ মুহূর্তে কাছের কয়েকজন মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি তাকে বলেছেন—
“আমরা জানি, তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ। কিন্তু তুমি শক্ত থেকেছ।”
এই কথাগুলো তার কাছে শুধু সান্ত্বনা নয়, বরং এক ধরনের স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরে নিজের অনুভূতি চেপে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা তিনি করেছেন, সেটির মূল্যায়ন যেন এই কথার মধ্যেই ধরা পড়েছে।
তার ভাষায়,
“অনেক সময় আমরা শক্ত থাকার ভান করি। কিন্তু কেউ যদি বলে—‘আমি তোমার কষ্টটা দেখেছি’, তখন মনে হয়, এতদিনের চাপটা একটু হলেও হালকা হলো।”
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা
শনবম ফারিয়া বরাবরই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার পর তিনি আরও জোর দিয়ে বলছেন—মানসিক কষ্টকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
তার মতে,
“আমাদের সমাজে এখনো মানসিক কষ্টকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটা শরীরের যেকোনো রোগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কষ্ট হলে কথা বলা দরকার, সাহায্য নেওয়া দরকার।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চান—নিজের কষ্ট লুকিয়ে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চাপ
একজন পরিচিত মুখ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনায় থাকেন শনবম ফারিয়া। তবে এই পরিচিতির সঙ্গে আসে বাড়তি চাপ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য ও সমালোচনার শিকার হতে হয় তাকে।
ফারিয়া বলেন,
“সব মন্তব্য আমি পড়ি না, কিন্তু কিছু কথা এমন হয় যা মনে দাগ কাটে। তখন নিজেকে সামলে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
এই জায়গায়ও কাছের মানুষের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা তাকে বাস্তবতার মাটিতে পা রাখতে সাহায্য করেছেন এবং বুঝিয়েছেন—সব সমালোচনাই গ্রহণযোগ্য নয়।
কাজের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া শক্তি
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি শনবম ফারিয়া। বরং কাজকেই তিনি মানসিকভাবে সুস্থ থাকার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।
নাটক ও চলচ্চিত্রে তার সাম্প্রতিক কাজগুলোতে পরিণত অভিনয়ের ছাপ স্পষ্ট। সমালোচকদের মতে, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হয়তো তার অভিনয়ে আরও গভীরতা এনেছে।
ফারিয়া নিজেও স্বীকার করেন,
“যখন কাজ করি, তখন নিজের কষ্টগুলোকে চরিত্রের মধ্যে ঢেলে দিতে পারি। এটা একধরনের থেরাপির মতো কাজ করে।”
ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এই পুরো সময়জুড়ে ভক্তদের সমর্থনও তাকে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক অচেনা মানুষও তাকে সাহসী থাকার বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“অনেক সময় একজন অচেনা মানুষের একটি ভালো কথা আপনাকে পুরো দিনটা পার করে দিতে পারে। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা
‘তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ’—এই বাক্যটি শনবম ফারিয়ার জীবনে এখন আর শুধু অতীতের গল্প নয়। বরং এটি হয়ে উঠেছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
তিনি মনে করেন, কষ্ট জীবনের অংশ, তবে কষ্টের মধ্য দিয়েই মানুষ আরও সংবেদনশীল ও মানবিক হয়ে ওঠে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি চান, অন্যরাও যেন কষ্টকে লুকিয়ে না রেখে সহানুভূতি ও সহায়তার পথে হাঁটেন।
শেষে তিনি বলেন,
“আমি এখনো শিখছি কীভাবে নিজেকে ভালো রাখতে হয়। যদি আমার গল্প কাউকে একটু সাহস দেয়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
#খবরডটকম
0 মন্তব্যসমূহ