
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দায়িত্বশীল ফিফটিতে ভর করে প্রতিপক্ষকে সাত উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটে–বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই নিজেদের হাতে রাখে টাইগ্রেসরা। এই জয়ে সিরিজ/টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
টস ও ম্যাচের প্রেক্ষাপট
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রতিপক্ষ দল ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। উইকেট ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য মাঝারি মানের, তবে শুরুতে বল কিছুটা নড়াচড়া করছিল। বাংলাদেশি বোলাররা এই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগান। নতুন বলে লাইন–লেন্থে শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রাখে টাইগ্রেস আক্রমণ।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের মূল শক্তি ছিল ধারাবাহিকতা। পাওয়ারপ্লেতেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের গতি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় বাংলাদেশ। মিডল ওভারে স্পিনাররা রান আটকে রেখে প্রতিপক্ষের বড় স্কোর গড়ার সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন।
ফিল্ডিংয়েও ছিল চোখে পড়ার মতো তৎপরতা। বাউন্ডারিতে দ্রুত মুভমেন্ট, ইনফিল্ডে চাপ তৈরি করা—সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি। নির্ধারিত ওভারে প্রতিপক্ষ একটি লড়াই করার মতো হলেও চ্যালেঞ্জিং নয়—এমন সংগ্রহেই থামে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু
লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনাররা উইকেটে থিতু হয়ে খেলতে থাকেন। শুরুতে উইকেট হারালেও সেটি দলের পরিকল্পনায় বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং ধীরে সুস্থে রান তোলার কৌশলেই এগোয় দল।
এখানেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। উইকেটে এসে তিনি পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করেন—কখনো সিঙ্গেলস, কখনো সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি। তার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিপক্বতা ও ম্যাচ সচেতনতা।
নিগার সুলতানার দায়িত্বশীল ফিফটি
নিগারের ফিফটি আসে ধৈর্য ও দক্ষতার মিশেলে। শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে উইকেট বুঝে নেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে স্ট্রাইক রেট বাড়ান। স্পিন ও পেস—দুই ধরনের বোলারদের বিরুদ্ধেই ছিল তার নিয়ন্ত্রিত শট নির্বাচন।
এই ইনিংস শুধু রান তোলার জন্য নয়, বরং দলের চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক প্রান্ত আগলে রেখে তিনি অন্য ব্যাটারদের স্বাভাবিক খেলতে সুযোগ করে দেন। অধিনায়কের এমন ইনিংস দলের ড্রেসিংরুমে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগায়।
জয়ের পথে শেষ মুহূর্ত
নিগারের সঙ্গে অপর প্রান্তে থাকা ব্যাটাররাও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। প্রয়োজনীয় রান রেট কখনোই বাংলাদেশের নাগালের বাইরে যায়নি। শেষ পর্যন্ত হাতে সাত উইকেট রেখেই লক্ষ্য পূরণ করে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ভেসে ওঠে সাত উইকেটের জয়—যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের আধিপত্যই স্পষ্ট করে।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স
এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় এসেছে দলগত প্রচেষ্টায়। বোলারদের শুরুর নিয়ন্ত্রণ, ফিল্ডারদের তৎপরতা এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংস—সব মিলিয়ে ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স।
বিশেষ করে অধিনায়ক নিগারের নেতৃত্ব প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাঠে কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বোলার পরিবর্তন এবং ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব—সব দিকেই ছিল তার স্পষ্ট ছাপ।
কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে কোচিং স্টাফদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছে বলেই এমন জয় সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ নারী দলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—চাপের মুখেও শান্ত থাকা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।
তারা আরও মনে করছেন, নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্ত করবে।
সামনে তাকিয়ে বাংলাদেশ
এই জয় ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর জন্য বাংলাদেশকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। ব্যাটিং ইউনিটে ধারাবাহিকতা এবং বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য—এই দুটি বিষয় ধরে রাখতে পারলে সামনে আরও বড় সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিগার সুলতানার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ফর্মে থাকা দলের জন্য বাড়তি স্বস্তির বিষয়। তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, নিগারের ফিফটিতে বাংলাদেশের সাত উইকেটের জয় ছিল একটি পরিপূর্ণ দলীয় সাফল্য। ব্যাটে–বলে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে—সঠিক পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় ম্যাচেও জয় সম্ভব।
এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অগ্রগতির আরেকটি দৃঢ় পদক্ষেপ।
#খবরডটকম
0 মন্তব্যসমূহ