
বলিউডে নারীপ্রধান অ্যাকশন–থ্রিলারের ক্ষেত্রে যে অল্প কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়েছে, ‘মারদানি’ তাদের অন্যতম। সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে এবার প্রেক্ষাগৃহ কাঁপাচ্ছে রানি মুখার্জি অভিনীত ‘মারদানি থ্রি’। মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ছবিটি, যা আবারও প্রমাণ করল—শক্ত গল্প, বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা ও দৃঢ় অভিনয় থাকলে নারীপ্রধান সিনেমাও বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারে।
শক্তিশালী ওপেনিং ও দর্শক আগ্রহ
মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ‘মারদানি থ্রি’ দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। প্রিমিয়ার শো থেকে শুরু করে নিয়মিত প্রদর্শনী—প্রায় সব জায়গাতেই হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিশেষ করে মেট্রো শহরগুলোতে ছবিটি উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এবং ‘মারদানি’ সিরিজের প্রতি আস্থাই এই শক্তিশালী ওপেনিংয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শিবানী শিবাজির প্রত্যাবর্তন
‘মারদানি থ্রি’-তে রানি মুখার্জি আবারও ফিরেছেন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা শিবানী শিবাজি রায় চরিত্রে। আগের দুই কিস্তির মতো এবারও তিনি নারী ও শিশু পাচার, সংগঠিত অপরাধ এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তবে তৃতীয় কিস্তিতে চরিত্রটির মানসিক গভীরতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দর্শকদের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
রানি মুখার্জির অভিনয় নিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা একবাক্যে—তিনি কেবল অ্যাকশন বা সংলাপেই নয়, নীরব দৃশ্য ও আবেগঘন মুহূর্তেও চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।
গল্প ও নির্মাণশৈলী
এই ছবির গল্প সমসাময়িক অপরাধ বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কাহিনি এগিয়েছে দ্রুত গতিতে, তবে অপ্রয়োজনীয় নাটকীয়তা এড়িয়ে। তদন্তের প্রতিটি ধাপে টানটান উত্তেজনা বজায় রাখা হয়েছে, যা দর্শককে শেষ পর্যন্ত আসনে বেঁধে রাখে।
পরিচালকের নির্মাণশৈলীতে রয়েছে বাস্তবতার ছাপ—অন্ধকারাচ্ছন্ন শহর, নিঃশব্দ আতঙ্ক এবং অপরাধজগতের নির্মমতা অত্যন্ত সংযত ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং ক্যামেরা ওয়ার্ক ছবির থ্রিল ফ্যাক্টর আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বক্স অফিসে ধারাবাহিক সাফল্য
মুক্তির পর কয়েক দিন পার হলেও ‘মারদানি থ্রি’-এর আয় স্থিতিশীল রয়েছে, যা যে কোনো ছবির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। সপ্তাহান্তে তো বটেই, সপ্তাহের মাঝের দিনগুলোতেও ছবিটি সন্তোষজনক ব্যবসা করছে। মুখে-মুখে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ায় নতুন দর্শক হলমুখী হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে শক্ত চিত্রনাট্য, পরিচিত ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং রানি মুখার্জির নির্ভরযোগ্য তারকা উপস্থিতি। বড় বাজেটের অতিরঞ্জিত অ্যাকশন বা গাননির্ভর প্রচারের বদলে ছবিটি কনটেন্টের জোরেই এগোচ্ছে।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
সমালোচক মহলেও ‘মারদানি থ্রি’ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকেই একে সিরিজের সবচেয়ে পরিণত কিস্তি বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক বার্তা ও বিনোদনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ছবিটি প্রশংসিত হয়েছে। তবে কিছু সমালোচক মনে করছেন, গল্পের কিছু অংশ আরও বিস্তৃত হলে ভালো হতো—তবুও সামগ্রিকভাবে ছবিটি প্রশংসার যোগ্য।
সামাজিক বার্তা ও প্রভাব
‘মারদানি’ সিরিজের অন্যতম শক্তি হলো এর সামাজিক বার্তা। তৃতীয় কিস্তিতেও নারী নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছবিটি দেখার পর অনেক দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন, যা একটি বাণিজ্যিক ছবির জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।
বলিউডে নারীপ্রধান ছবির ভবিষ্যৎ
‘মারদানি থ্রি’-এর বক্স অফিস সাফল্য আবারও প্রমাণ করল, বলিউডে নারীপ্রধান ছবি এখন আর ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প নয়। বরং সঠিক পরিকল্পনা, শক্তিশালী গল্প ও দক্ষ অভিনয় থাকলে এ ধরনের ছবিও বড় পর্দায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও নারীপ্রধান অ্যাকশন ও থ্রিলার তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহ দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ‘মারদানি থ্রি’ শুধু বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে না, বরং বলিউডের ক্রাইম থ্রিলার ঘরানায় একটি শক্ত অবস্থানও তৈরি করেছে। রানি মুখার্জির দৃঢ় অভিনয়, বাস্তবসম্মত গল্প এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা—এই তিনের সমন্বয়েই ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। মুক্তির প্রথম ধাক্কা পেরিয়ে ছবিটি কত দূর এগোয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
#বিনোদন
0 মন্তব্যসমূহ