
বলিউডে নতুন চমক: মুন্না ভাই ও থ্রি ইডিয়টস-এর সিক্যুয়েল প্রস্তুত
বলিউডপ্রেমীদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে এসেছে সুখবর। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি—‘মুন্না ভাই’ সিরিজ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’—নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, এই দুই সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই এগিয়েছে। ফলে দর্শকদের মধ্যে আবারও তৈরি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা ও প্রত্যাশা।
‘মুন্না ভাই’ ফিরছে কি?
রাজকুমার হিরানির পরিচালনায় ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ এবং ২০০৬ সালের ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’ শুধু বক্স অফিসেই সাফল্য পায়নি, বরং সামাজিক বার্তা ও মানবিক গল্পের কারণে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। সঞ্জয় দত্তের মুন্না এবং আরশাদ ওয়ারসির সার্কিট চরিত্র আজও সমান জনপ্রিয়।
দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে কাজ চলছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নির্মাতা ও অভিনেতাদের বক্তব্যে আবারও সেই সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। জানা গেছে, গল্পের খসড়া নিয়ে একাধিকবার কাজ করা হয়েছে এবং এমন একটি কনসেপ্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা আগের দুটি ছবির মানবিকতা ও হাস্যরস বজায় রাখবে, আবার সমসাময়িক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও তুলে ধরবে।
বিশেষ করে সঞ্জয় দত্ত নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি মুন্না চরিত্রে আবার ফিরতে আগ্রহী। আরশাদ ওয়ারসিও একই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফলে সবকিছু ঠিক থাকলে, দর্শকরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ‘মুন্না ভাই ৩’ দেখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল নিয়ে নতুন আলোচনা
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ শুধু ভারতের নয়, বিশ্বজুড়ে বিপুল সাড়া ফেলেছিল। শিক্ষা ব্যবস্থার চাপ, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন ও জীবনের দর্শন—সব মিলিয়ে ছবিটি এক অনন্য মাইলফলক হয়ে ওঠে। আমির খান, আর. মাধবন ও শারমান জোশির ত্রয়ী অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাতা মহলের বক্তব্যে বিষয়টি নতুন গতি পেয়েছে। জানা গেছে, সম্ভাব্য গল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে এবং মূল চরিত্রগুলোকেই আবার ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গল্পটি সরাসরি আগের ঘটনার ধারাবাহিকতা হবে, নাকি নতুন প্রজন্মকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো আইকনিক সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরি করা সহজ নয়। কারণ দর্শকদের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি। তাই নির্মাতারা সময় নিয়ে শক্তিশালী চিত্রনাট্য তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছেন।
কেন এত আগ্রহ?
দুটি সিনেমারই মূল শক্তি ছিল মানবিক গল্প, শক্তিশালী বার্তা এবং স্মরণীয় চরিত্র। ‘মুন্না ভাই’ যেখানে হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজকে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, সেখানে ‘থ্রি ইডিয়টস’ তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও এই বিষয়গুলো সমান প্রাসঙ্গিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের ডিজিটাল যুগে যখন কনটেন্টের ভিড়ে দর্শকের মন জয় করা কঠিন, তখন এমন প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির সিক্যুয়েল দর্শকদের হলে টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্স অফিস সম্ভাবনা
বলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে বড় বাজেটের সিনেমা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। ‘মুন্না ভাই’ ও ‘থ্রি ইডিয়টস’—দুটিই অতীতে বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে। ফলে সিক্যুয়েল নির্মিত হলে তা বক্স অফিসে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন ট্রেড বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারেও ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তাই নতুন কিস্তি মুক্তি পেলে বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকেই লিখছেন, এই দুই সিনেমা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ আবার আশা প্রকাশ করছেন, নতুন গল্পেও আগের মতোই হাসি, আবেগ ও প্রেরণা থাকবে।
একই সঙ্গে কিছু দর্শক সতর্ক আশাবাদও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শুধু জনপ্রিয়তার কারণে নয়—ভালো গল্প ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত হলেই সিক্যুয়েল সফল হবে।
নির্মাণ কবে শুরু?
এখনো আনুষ্ঠানিক শুটিং শুরুর ঘোষণা না এলেও ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, চিত্রনাট্য চূড়ান্ত হলেই কাজ দ্রুত এগোবে। নির্মাতা রাজকুমার হিরানি বর্তমানে অন্যান্য প্রকল্প নিয়েও ব্যস্ত থাকলেও তিনি এই দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এক বা উভয় সিক্যুয়েলের শুটিং শুরু হতে পারে। মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা না গেলেও দর্শকদের অপেক্ষা যে খুব বেশি দীর্ঘ হবে না—এমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপসংহার
বলিউডের ইতিহাসে ‘মুন্না ভাই’ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’ শুধু সফল সিনেমা নয়, বরং সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারকারী দুটি সৃষ্টি। এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্ভাব্য সিক্যুয়েল নিয়ে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে।
যদি শক্তিশালী গল্প, প্রিয় অভিনেতাদের উপস্থিতি এবং আগের মতো হৃদয়ছোঁয়া বার্তা বজায় রাখা যায়, তবে এই সিক্যুয়েলগুলো আবারও দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কবে আবার বড় পর্দায় ফিরবে মুন্না, সার্কিট আর র্যাঞ্চোর অনুপ্রেরণার গল্প।
#বিনোদন #খবরডটকম #khabardtkom
0 মন্তব্যসমূহ