বাংলাদেশ–পাকিস্তান ইস্যুতে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঙ্গনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দুটি দেশই নানা সময় বিতর্ক, চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দলকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন ইংল্যান্ডের এক সাবেক অধিনায়ক। তাঁর মন্তব্যে যেমন উঠে এসেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্ভাবনা, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। ক্রিকেটবিশ্বে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

সাবেক এই ইংল্যান্ড অধিনায়ক মনে করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে অনেক সময়ই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবমূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—দুই দলই ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ফিটনেস উন্নয়ন এবং ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর পরিবর্তন ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ক্রিকেট আর আগের মতো কেবল কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন শক্তি উঠে আসছে, আর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান তার বড় উদাহরণ।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাবেক অধিনায়ক উল্লেখ করেন, গত এক দশকে দলটির মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় বড় দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেই যেখানে চাপ স্পষ্ট ছিল, এখন সেখানে জয়ের বিশ্বাস দেখা যায়। ঘরের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষকে হারানোর পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন আর ‘সহজ প্রতিপক্ষ’ নয়; বরং যে কোনো টুর্নামেন্টে চমক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি এসেছে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বে। ফিটনেস, ডায়েট, ম্যাচ প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই উন্নতি স্পষ্ট। পাশাপাশি ঘরোয়া লিগগুলোর মান বাড়ায় আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসছে। তরুণ ব্যাটসম্যান ও পেসারদের সাহসী ক্রিকেট ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তান ক্রিকেট প্রসঙ্গে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, এই দলটি বরাবরই প্রতিভার খনি হিসেবে পরিচিত। তবে ধারাবাহিকতার অভাব তাদের বড় সমস্যা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এবং তরুণদের সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা দলকে নতুন করে গড়ে তুলছে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের পেস আক্রমণ এখনো বিশ্বের সেরা গুলোর একটি, আর ব্যাটিং লাইনআপে এসেছে নতুন প্রাণ।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পাকিস্তান সবসময়ই অনিশ্চয়তার দল—যে কোনো দিন যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। তবে এখন সেই অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা। যদি দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে বড় টুর্নামেন্টে পাকিস্তান আবারও শিরোপার দাবিদার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সমর্থনের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন সাবেক অধিনায়ক—ক্রিকেটের বৈশ্বিক বিস্তার। তাঁর মতে, যদি খেলাটি সত্যিকার অর্থে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করতে হয়, তবে কেবল ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী দলগুলোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নতুন ও উদীয়মান দলগুলোকে সমান সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শক্তিশালী হয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যই ভালো।

তিনি আরও বলেন, বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না পেলে কোনো দলই উন্নতি করতে পারে না। তাই সূচি প্রণয়ন ও টুর্নামেন্ট পরিকল্পনায় ভারসাম্য আনা জরুরি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দলগুলোকে আরও বেশি সিরিজ ও বড় মঞ্চে সুযোগ দিলে ক্রিকেটের মান ও উত্তেজনা—দুটোই বাড়বে।

সাবেক এই ইংল্যান্ড অধিনায়ক তাঁর বক্তব্যে সমালোচনাও করেছেন ক্রিকেটের রাজনীতিকে। তাঁর মতে, অনেক সময় বাণিজ্যিক স্বার্থ ও সম্প্রচার চুক্তির কারণে কিছু দল বেশি সুযোগ পায়, আর কিছু দল পিছিয়ে পড়ে। এই প্রবণতা বদলাতে না পারলে ক্রিকেটের বৈশ্বিক অগ্রগতি থমকে যেতে পারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সমর্থন জানিয়ে তিনি মূলত সমতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলেই বিশ্লেষকদের মত।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সাবেক অধিনায়কের এই মন্তব্য কেবল সৌজন্য নয়; বরং মাঠের পারফরম্যান্স থেকেই তার জন্ম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একাধিকবার বড় দলকে হারিয়েছে, যা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ। বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে এই দুই দলের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘরের মাঠে শক্তিশালী হওয়া যেমন ইতিবাচক, তেমনি বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকতা বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত পরিকল্পনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য শৃঙ্খলা ও দলীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই মূল চাবিকাঠি।

সব মিলিয়ে, সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট—বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আর পিছিয়ে থাকা দল নয়। বরং তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের জায়গা শক্ত করে নিচ্ছে। তাঁর এই সমর্থন শুধু দুটি দলের জন্য অনুপ্রেরণা নয়, বরং ক্রিকেটবিশ্বের জন্যও একটি বার্তা—খেলাটি তখনই আরও সমৃদ্ধ হবে, যখন সব দলের অগ্রগতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্ট ও সিরিজগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কীভাবে নিজেদের প্রমাণ করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে এই দুই দলই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বড় সাফল্যের গল্প লিখতে পারে।

 #খবরডটকম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ